Header Ads Widget


প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন করবেন কীভাবে? একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা

বর্তমান ব্যবসাবান্ধব বাজারব্যবস্থায় উদ্যোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও টেকসই ব্যবসা পরিচালনার অন্যতম উপযুক্ত কাঠামো হলো প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। দেশের যৌথমূলধনী কোম্পানি ও ফার্মস পরিদপ্তর (আরজেএসসি) মূলত দুই ধরনের কোম্পানি নিবন্ধন করে থাকে।

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা
(১) প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি
(২) পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি

প্রাইভেট ও পাবলিক লিমিটেড: কোথায় মূল পার্থক্য?

আইন অনুযায়ী প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে ন্যূনতম শেয়ারহোল্ডার দুইজন এবং সর্বোচ্চ পঞ্চাশজন। অপরদিকে শেয়ারহোল্ডারের সংখ্যা ৫০-এর বেশি হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির আওতায় পড়ে। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে ন্যূনতম শেয়ারহোল্ডারের সংখ্যা সাতজন হলেও সর্বোচ্চ সংখ্যার কোনো সীমা নেই।

শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও দুই ধরনের কোম্পানির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তর সাধারণত বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং বোর্ডের পূর্বানুমতি আবশ্যক। কিন্তু পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে এসব বিধিনিষেধ নেই; বিনিয়োগকারী স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমেই যেকোনো সময় শেয়ার বিক্রি করতে পারেন।

এছাড়া অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বন্ড বা ডিবেঞ্চার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে না; এটি শুধুমাত্র পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রেই অনুমোদিত।

কেন প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন করবেন

ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারণ, আইনগত নিরাপত্তা, মালিকদের সীমিত দায়বদ্ধতা এবং বিনিয়োগ আনার সুযোগ—এসব বিবেচনায় ক্রমেই উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। ব্যবসা স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছালে করপোরেট কাঠামো উদ্যোক্তাকে নানা সুবিধা প্রদান করে, যা একক মালিকানাধীন বা পার্টনারশিপ ব্যবসায় পাওয়া যায় না।

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠনের ধাপসমূহ

ধাপ–১: নামের ছাড়পত্র (Name Clearance) সংগ্রহ

প্রথমেই আরজেএসসি’র ওয়েবসাইট **www.roc.gov.bd** একাউন্ট খুলে প্রস্তাবিত কোম্পানির নামে নাম ছাড়পত্রের আবেদন করতে হয়। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর ৬০০ টাকা ফি এবং ১৫% ভ্যাট জমা দিতে হয়। অনুমোদন পেলে নামটি ছয় মাসের জন্য সংরক্ষিত থাকে। প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।

ধাপ–২: কোম্পানি নিবন্ধন

পরবর্তী ধাপে আরজেএসসি’র পোর্টালে প্রয়োজনীয় তথ্য ও দলিলপত্র জমা দিতে হয়। মূল নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

মেমোরেন্ডাম অফ অ্যাসোসিয়েশন (MOA)

* আর্টিকেলস অফ অ্যাসোসিয়েশন (AOA)

* ফর্ম IX

শেয়ারহোল্ডারদের জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট

* পরিচালকদের টিআইএন

* কোম্পানির নিবন্ধিত ঠিকানা

সমস্ত তথ্য যাচাইয়ের পর আরজেএসসি নিচের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নথি ইস্যু করে—
(১) সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন
(২) MOA ও AOA এর ডিজিটাল কপি
(৩) ফর্ম XII (ডিরেক্টর তালিকা)
এগুলো পাওয়ার মাধ্যমে কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়।

নিবন্ধনের পর যা যা করতে হবে

নিবন্ধন সম্পন্ন হলেও কোম্পানিকে ব্যবসা পরিচালনার জন্য আরও কয়েকটি আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়—

ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ

* ই-টিআইএন নিবন্ধন

* প্রয়োজনে ভ্যাট নিবন্ধন (BIN) সংগ্রহ

* ব্র্যান্ড নাম ও লোগো ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন—পণ্য বা সেবার সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ব্যাংকে করপোরেট অ্যাকাউন্ট খোলা

সময়ের সাথে ব্যবসার পরিধি বাড়ার সাথে সাথে আইনি নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বও বৃদ্ধিপায়। সেজন্যই উদ্যোক্তাদের জন্য প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও গ্রহণযোগ্য করপোরেট কাঠামো। সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং ধাপগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে খুব সহজেই একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন করা সম্ভব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ