Header Ads Widget


মৃত্যু তো হবেই, কিন্তু তাই বলে অসুস্থতা কেন? — ওষুধ ছাড়াই ১০০ বছর বাঁচার গোপন সূত্র!

আপনার কি মনে হয় ফার্মেসির রংবেরঙের ক্যাপসুলগুলোই আপনার প্রাণভোমরা? আপনি কি বিশ্বাস করেন বয়স ৪০ পেরোলেই সুগার, প্রেশার, বাতের ব্যথা আপনার বিধিলিপি? নাকি আপনি সেই দলের মানুষ- যারা মনে করেন "ওষুধ ছাড়া আমি এক্কেবারেই অচল"?

ওষুধ ছাড়াই ১০০ বছর বাঁচার গোপন সূত্র!


অধ্যায় ১: আধুনিক চিকিৎসার মায়াজাল ও আপনার শরীর (The Illusion of Medicine)
আমরা এমন এক সমাজে বাস করছি- যেখানে সুস্থতার সংজ্ঞাটাই বদলে দেওয়া হয়েছে। আজ সুস্থ থাকার অর্থ 'টেস্ট রিপোর্ট ঠিক রাখা'। কিন্তু আপনি কি জানেন, রিপোর্ট ঠিক থাকার মানেই সুস্থতা নয়? রোগের উপশম (মানে লক্ষণ ধামাচাপা দেওয়া) আর নিরাময় এক কথা নয়?
আমাদের শরীর কোনো কৃত্রিম যন্ত্র নয় যে কোনো একটি পার্টস (অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ) খারাপ হলে তা বদলে ফেলবো বা তেল দিয়ে ঠিক করবো। শরীর হলো এক মহাজাগতিক বুদ্ধিমত্তা (Cosmic Intelligence)। আপনি যখন সামান্য মাথাব্যথার জন্য একটি প্যারাসিটামল খান, আপনি আসলে আপনার শরীরের 'সতর্কবার্তা' বা অ্যালার্ম সিস্টেমটিই বন্ধ করে দিচ্ছেন। মাথাব্যথা ছিল শরীরের ভাষা— সে বলছিল আপনার বিশ্রাম দরকার বা জল দরকার। কিন্তু আপনি ওষুধরূপী ড্রাগস দিয়ে তার মুখ বন্ধ করে দিলেন।
ভয়ঙ্কর সত্য: দীর্ঘমেয়াদী ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা 'Side Effects' নতুন রোগের জন্ম দেয়। প্রেশারের ওষুধ কিডনি নষ্ট করে, ব্যথার ওষুধ লিভার পচিয়ে দেয়। একে বলা হয় 'Iatrogenics' অর্থাৎ চিকিৎসার কারণে সৃষ্ট রোগ।
উপদেশ: ছোটখাটো অসুখে ওষুধের বাক্সে হাত দেবেন না। জ্বর হলে শরীরকে পুড়তে দিন, সেই উত্তাপেই ভাইরাস মরবে এবং গুনাহ মাফ হবে। পেট খারাপ হলে উপবাস করুন, শরীর আবর্জনা বের করে দেবে। শরীরের ওপর বিশ্বাস রাখুন, সে আপনাকে ঠকাবে না, বরং নিজ দায়িত্বে সুস্থ হয়ে যাবে।
অধ্যায় ২: অটোফেজি – শরীরের ভেতরের ডাস্টবিন পরিষ্কার (The Magic of Fasting)
আমাদের দাদু-দিদারা বলতেন, "লংঘনম্ পরম্ ঔষধম্"। অর্থাৎ উপবাসই শ্রেষ্ঠ ওষুধ। তখন আমরা হাসতাম। আজ ২০১৬ সালে জাপানি বিজ্ঞানী ইওশিনোরি ওসুমি (Yoshinori Ohsumi) নোবেল পুরস্কার পেলেন 'অটোফেজি' (Autophagy) আবিষ্কারের জন্য।
অটোফেজি কী? যখন আপনি ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় না খেয়ে থাকেন, আপনার শরীর বাইরে থেকে খাবার পায় না। তখন বাঁচার তাগিদে শরীর তার ভেতরের মৃত কোষ, টক্সিন, এবং ক্যান্সারের প্রাথমিক সেলগুলোকে খেয়ে ফেলে শক্তি উৎপাদন করে। সোজা কথায়, শরীর নিজের ভেতরের ডাস্টবিন নিজেই পরিষ্কার করে।
কীভাবে করবেন? ৩৫ বছরের পর তিন বেলা পেট ভরে খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
• Intermittent Fasting: রাত ৮টায় খেয়ে নিন, পরদিন দুপুর ১২টার আগে ভারী কিছু খাবেন না। এই ১৬ ঘণ্টার গ্যাপে আপনার শরীর নিজেকে সারিয়ে নতুন করে তুলবে।
• সপ্তাহে অন্তত একদিন শুধু জল বা ফল খেয়ে থাকুন। দেখবেন, আপনার বয়স ১০ বছর কমে গেছে।
অধ্যায় ৩: মন-ই আসল হিলিং সেন্টার (Psychoneuroimmunology)
আমাদের অসুখের শিকড় শরীরে নয়, মনে। বিজ্ঞান বলছে, ৯০% অসুখ 'সাইকোসোমাটিক' (Psychosomatic)। 'সাইকো' মানে মন, 'সোমা' মানে শরীর।
আপনার কি মনে আছে শেষ কবে আপনি প্রাণখুলে হেসেছিলেন? বা শেষ কবে কোনো কারণ ছাড়াই কেঁদেছিলেন? আমরা আমাদের আবেগগুলোকে দমিয়ে রাখি।
• যে রাগ আপনি প্রকাশ করেননি, তা উচ্চ রক্তচাপ হয়ে বের হয়।
• যে কান্না আপনি চেপে রেখেছেন, তা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট হয়ে দেখা দেয়।
• যে ভয় আপনাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে, তা কিডনির অসুখ ডেকে আনে।
• আর কাউকে ক্ষমা না করার জেদ ক্যান্সার তৈরি করে।
মনোবল শক্ত রাখার উপায়: নিজেকে এক্সপ্রেস করুন। চিৎকার করে গান গাইলে গান, নাচতে ইচ্ছে হলে নাচুন। কে কী ভাবল—তা নিয়ে ভাবার সময় এখন আর নেই। মনের আবর্জনা বের করে দিলেই শরীর হালকা হবে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বলুন, "আমি আমাকে ভালোবাসি, আমি আমাকে গ্রহণ করেছি।" এই ছোট বাক্যটি পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী মন্ত্র।
অধ্যায় ৪: জলই জীবন, নাকি জলই বিষ? (The Water Memory)
আমরা জানি জলের অপর নাম জীবন। কিন্তু আপনি কি জানেন, ভুল পদ্ধতিতে জল পান করলে তা বিষের মতো কাজ করে? বেশিরভাগ মানুষ দাঁড়িয়ে জল পান করেন। এতে কিডনির ফিল্টার নষ্ট হয় এবং আর্থ্রাইটিসের সমস্যা বাড়ে। আবার অনেকে খাবারের মাঝখানে ঢকঢক করে জল খান। এটি পেটের জঠরাগ্নি (Digestive Fire) নিভিয়ে দেয়, ফলে খাবার হজম না হয়ে পচে যায় এবং গ্যাস্ট্রিকের সৃষ্টি হয়।
সঠিক নিয়ম:
• জল সবসময় বসে, চুমুক দিয়ে (Sip by sip) পান করুন, যেন মুখের লালা (Saliva) জলের সাথে মিশে পেটে যায়। এই লালা ক্ষারীয় (Alkaline), যা পেটের অ্যাসিড প্রশমিত করে।
• খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে এবং খাওয়ার ১ ঘণ্টা পর জল পান করুন।
• প্লাস্টিকের বোতল বর্জন করুন। মাটির কলসি বা তামার পাত্রের জল পান করুন। এতে জলের 'Life Energy' বা প্রাণশক্তি বজায় থাকে।
অধ্যায় ৫: খাবার যখন ওষুধ (Let Food Be Thy Medicine)
হিপোক্রেটিস বলেছিলেন, "তোমার খাবারই হোক তোমার ওষুধ।" কিন্তু আমরা খাবারকে বানিয়েছি বিনোদন। জিহ্বার স্বাদের জন্য আমরা যা খাই, তা আমাদের অন্ত্রের (Gut) জন্য অত্যাচার।
আমাদের শরীর 'মৃত' খাবার চেনে না। প্যাকেটজাত খাবার, ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার, রিফাইন করা তেল ও চিনি—এগুলো সবই 'মৃত খাবার' (Dead Food)। এগুলো শরীরে গিয়ে কোনো শক্তি দেয় না, শুধু বোঝা বাড়ায়।
কী খাবেন?
• জীবন্ত খাবার (Living Food): প্রতিদিনের খাবারে অন্তত ৫০% কাঁচা শাকসবজি, ফল এবং সালাদ রাখুন। রান্না করা খাবারে এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু কাঁচা খাবারে 'প্রাণ' থাকে।
• সাদা বিষ বর্জন: সাদা চিনি, সাদা লবণ এবং ময়দা—এই তিনটি জিনিস রান্নাঘর থেকে বিদায় করুন। এগুলো সরাসরি হাড় ক্ষয় করে এবং ডায়াবেটিস ডেকে আনে।
• চিবিয়ে খাওয়া: খাবার এমনভাবে চিবাবেন যেন তা মুখে জল হয়ে যায়। মনে রাখবেন, "পাকস্থলীতে কোনো দাঁত নেই।"
অধ্যায় ৬: ঘুম যখন মেরামতের সময় (The Circadian Rhythm)
আপনি হয়তো দিনে ৮ ঘণ্টা ঘুমান, তবুও সকালে ক্লান্ত লাগে। কেন জানেন? কারণ আপনি প্রকৃতির ঘড়ির সাথে মিল রেখে ঘুমাচ্ছেন না। আমাদের শরীরে একটি বায়োলজিক্যাল ক্লক আছে। রাত ১০টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত সময়টা হলো আমাদের শরীরের 'মেরামত' করার সময়। এই সময়ে আমাদের লিভার ডিটক্স করে, হরমোন ব্যালেন্স হয়। কিন্তু আপনি যদি রাত ১টায় ঘুমান, তবে শরীর তার মেরামতের সময় পায় না। দিনের পর দিন এমন চলতে থাকলে শরীর ভাঙতে শুরু করে। টিপস:
• রাত ১০টার মধ্যে বিছানায় যান।
• শোয়ার ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকুন। নীল আলো (Blue Light) আমাদের মস্তিষ্কের মেলাটোনিন হরমোন নষ্ট করে দেয়, যা ঘুমের জন্য দায়ী।
• শোয়ার ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার রাখুন। সামান্য আলোও আপনার গভীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
অধ্যায় ৭: হাঁটা মানে জিম নয়, প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ (Earthing & Movement)
৪০-এর পর জিমে গিয়ে ভারী লোহা তোলার দরকার নেই। দরকার 'ফাংশনাল মুভমেন্ট'। আমাদের শরীর তৈরি হয়েছে নড়াচড়া করার জন্য, চেয়ারে বসে থাকার জন্য নয়। কিন্তু এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো 'Earthing' বা মাটির সাথে সংযোগ।
আমরা এখন জুতো ছাড়া মাটিতে পা ফেলি না। ফলে পৃথিবী থেকে যে নেগেটিভ ইলেকট্রন আমাদের শরীরে প্রবেশ করে প্রদাহ (Inflammation) কমানোর কথা, তা আর হতে পারে না।
করনীয়:
• প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট খালি পায়ে ঘাসের ওপর বা মাটিতে হাঁটুন। এটি আপনার নার্ভ সিস্টেম শান্ত করবে, প্রেশার কমাবে এবং ঘুমের উন্নতি ঘটাবে।
• সূর্যের আলো গায়ে মাখুন। ভিটামিন ডি কোনো ট্যাবলেট থেকে পাওয়া যায় না, তা পাওয়া যায় সূর্যের আলো আর চামড়ার কোলেস্টেরলের বিক্রিয়ায়। প্রতিদিন সকালে ১৫ মিনিট রোদ পোহান।
অধ্যায় ৮: সম্পর্ক ও ক্ষমা – হৃদরোগের আসল প্রতিষেধক (Forgiveness Detox)
শুনতে অবাক লাগবে, কিন্তু অনেক মানুষ হার্ট অ্যাটাকে মারা যায় শুধু মনের ভেতর বছরের পর বছর পুষে রাখা ক্ষোভের কারণে। কাউকে ক্ষমা না করা মানে হলো নিজে বিষ পান করে আশা করা যে অন্য কেউ মারা যাবে।
আপনার বয়স যদি ৫০-এর বেশি হয়, তবে আজই একটা কাজ করুন। চোখ বন্ধ করুন এবং সেই মানুষগুলোকে ক্ষমা করে দিন যারা আপনাকে ঠকিয়েছে, কষ্ট দিয়েছে। তাদের জন্য নয়, আপনার নিজের জন্য। বিশ্বাস করুন, ক্ষমা করে দেওয়ার পর আপনার বুকের ওপর থেকে যে পাথরটা নেমে যাবে, তা ১০টা হার্টের ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকরী।
একাকীত্ব ধূমপানের চেয়েও ক্ষতিকর। তাই মানুষের সাথে মিশুন। পুরানো বন্ধুদের খুঁজে বের করুন। নতুন সম্পর্ক গড়ুন। নাতি-নাতনিদের সাথে সময় কাটান। ভালোবাসার হরমোন 'অক্সিটোসিন' আপনার ইমিউনিটি বাড়াবে।
অধ্যায় ৯: শ্বাস – প্রাণের অদৃশ্য সুতো (The Power of Breath)
আমরা শ্বাস নিই, কিন্তু আমরা জানি না কীভাবে শ্বাস নিতে হয়। আমরা বুক ভরে ছোট ছোট শ্বাস নিই, যা আমাদের শরীরকে সবসময় 'ফাইট অর ফ্লাইট' (Stress Mode) মোডে রাখে। দীর্ঘ ও গভীর শ্বাস (Deep Breathing) আমাদের প্যারাসিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে সক্রিয় করে, যা শরীরকে শান্ত করে।
প্রাণায়াম: প্রতিদিন সকালে ১০ মিনিট 'অনুলোম-বিলোম' বা 'গভীর শ্বাস' অনুশীলন করুন। কল্পনা করুন, প্রতিটি শ্বাসের সাথে মহাবিশ্বের পজিটিভ শক্তি আপনার শরীরে ঢুকছে, আর প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে শরীরের সব রোগ, হতাশা কালো ধোঁয়া হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। অক্সিজেনই হলো সেই জ্বালানি যা ক্যান্সার সেলকে ধ্বংস করতে পারে (ক্যান্সার সেল অক্সিজেন সমৃদ্ধ পরিবেশে বাঁচতে পারে না)।
অধ্যায় ১০: মৃত্যুর ভয় ও আধ্যাত্মিক জাগরণ (Spiritual Acceptance)
সবশেষে সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় বাধা হলো—মৃত্যুভয়। আমরা মরতে ভয় পাই বলেই বাঁচতে ভুলে যাই। যে মানুষ জানে যে মৃত্যু কোনো শেষ নয়, বরং এক নতুন যাত্রার শুরু, বা এক পোশাক বদলে অন্য পোশাক পরা—সে কখনো অসুস্থ হয় না। তার মনের জোর অসীম।
বার্ধক্য কোনো অভিশাপ নয়, এটি জীবনের একটি রাজকীয় অধ্যায়। চুলে পাক ধরা মানে আপনি অভিজ্ঞ, চামড়ায় ভাঁজ মানে আপনি জীবনের অনেক ঝড় সামলেছেন। নিজেকে বুড়ো ভাবা বন্ধ করুন।
জীবনের উদ্দেশ্য (Ikigai): জাপানিরা একে বলে 'ইকিগাই'। অর্থাৎ, সকালে ঘুম থেকে ওঠার একটি কারণ। রিটায়ারমেন্ট মানে জীবনের শেষ নয়। নতুন কিছু শিখুন। বাগান করুন, বই লিখুন, সমাজসেবা করুন। যেদিন আপনার জীবনের উদ্দেশ্য শেষ হয়ে যাবে, সেদিন শরীরও হাল ছেড়ে দেবে। তাই শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত স্বপ্ন দেখুন।
উপসংহার: চাবি আপনার হাতেই
প্রিয় পাঠক, এতোক্ষণ যা পড়লেন, তা কোনো জাদুর মন্ত্র নয়, এটিই শাশ্বত জীবনধারা। ডাক্তার আপনাকে বাঁচাবে না, হাসপাতাল আপনাকে সুস্থ করবে না। সুস্থ থাকার চাবিকাঠি আপনার রান্নাঘরে, আপনার চিন্তায়, আপনার জীবনযাত্রায়।
সৃষ্টিকর্তা আপনাকে পাঠিয়েছেন একটি নিখুঁত মেশিন হিসেবে। এর যত্ন নিন। প্রকৃতির সাথে মিশুন। হাসুন, ভালোবাসুন, ক্ষমা করুন। আপনার মনের শক্তি যখন জেগে উঠবে, তখন কোনো রোগ আপনার শরীরে বাসা বাঁধতে সাহস পাবে না।
আপনি কি প্রস্তুত আপনার জীবনটাকে বদলে ফেলার জন্য? নাকি সেই ওষুধের বাক্সের কাছেই আত্মসমর্পণ করবেন? সিদ্ধান্ত আজই নিন।
লেখনী: সুকান্ত ভট্টাচার্য্য

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ