Header Ads Widget


কবিরা গোনাহ থেকে ক্ষমা যেভাবে



মুফতি শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: কবিরা অর্থ বড়, ছগিরা অর্থ ছোট। ছগিরা গোনাহ মানে ছোট পাপ, কবিরা গোনাহ মানে বড় পাপ। ছগিরা এর বহুবচন ছগায়ের, কবিরা এর বহুবচন কাবায়ের। পাপের আরবি হলো মাছিয়াত, ইছম, তুগইয়ান, জুরম, ফিসক ইত্যাদি। এর কর্তা হলোÑ আছি, মুছিম, তাগি, মুজরিম, ফাসিক ইত্যাদি। ফারসি, উর্দু ও হিন্দিতে গোনাহ, খতা, পাপ, বদ ও বদি ইত্যাদি। এর কর্তা হলো গোনাহগার, খতাকার, ছয়াহকার, বদকার ইত্যাদি।  
পাপ হলো শরিয়তের আদেশ-নিষেধ লঙ্ঘন করা। নির্দেশ অবহেলা করা ও নিষেধ অমান্য করা। পাপ বা অপরাধ ছোট হোক বা বড় তা সবসময় বর্জনীয়। কোনো ছোট পাপকে হালকা মনে করাও একটি কবিরা গোনাহ বা বড় পাপ। তবে মাত্রা ভেদে ও পরিণতিতে পাপের লঘু ও গুরু ফলাফলের ভিত্তিতে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে পাপকে ছগিরা ও কবিরা দুই ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। 
কবিরা গোনাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো কুফর ও শিরিক। কুফর মানে হলো আড়াল করা, গোপন করা, লুকানো এবং কৃতঘ্নতা বা অকৃতজ্ঞতা। পরিভাষায় কুফর হলো আল্লাহ বা স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকার করা। এটা সবচেয়ে বড় কুফরি। এ ধরনের কুফরের কোনো ক্ষমা নেই। আল্লাহর নিয়ামতের না-শোকরি বা অস্বীকার করা এবং আল্লাহর সৃষ্টিতে অন্য কারও ক্ষমতা স্বীকার করাও এক ধরনের কুফর। পরিভাষায় এই কুফরকে শ্রেণিভেদে শিরিক, কবিরা গোনাহ ও ছগিরা গোনাহ বলা হয়।
শিরিক অর্থ হলো আল্লাহর সঙ্গে জাত, সিফাত ও উলুহিয়াতে (সত্তা, গুণ ও ইবাদাতে) অন্য কাউকে শরিক বা অংশীদার সাব্যস্ত করা। কোরআনে মুশরিকদেরও কাফের বলে সম্বোধন করা হয়েছে। যেমন : আপনি বলুনÑ ‘হে কাফেররা! আমি ইবাদাত করি না ওইসব উপাস্যের তোমরা যেগুলোর পূজা করো। আর তোমরা ইবাদতকারী নও সেই মাবুদের, যার ইবাদত (আনুগত্য) আমি করি। আমিও ইবাদতকারী নই ওসবের, যেসবের পূজারি তোমরা। আর তোমরাও ইবাদতকারী নও সেই মাবুদের, যার ইবাদত (দাসত্ব) আমি করি। তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন (কর্মফল); আমার জন্য আমার দ্বীন (কর্মফল)।’ (সূরা কাফিরুন : ১-৬)।
শিরিক ফলাফল বা পরিণতিতে কুফরের সমান। শিরিক আল্লাহ জাল্লা শানুহু ক্ষমা করবেন না বলে কোরআনে ঘোষণা দিয়েছেন। ‘নিশ্চয় আল্লাহ তার সঙ্গে শরিক করা ক্ষমা করেন না। এটা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন; এবং যে কেউ আল্লাহর শরিক করে, সে এক মহাপাপ করে।’ (সূরা নিসা : ৪৮)।
শিরিক অমার্জনীয় অপরাধ ও সবচেয়ে বড় জুলুম বা মহাপাপ। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন: ‘স্মরণ করো! যখন লুকমান (আ.) উপদেশ দিয়ে তার পুত্রকে বলেছিলেন, হে বৎস! আল্লাহর সঙ্গে কোনো শরিক করো না। নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম।’ (সূরা লুকমান : ১৩)। (বোখারি : ৩১)।
কবিরা গোনাহের এমনই বৈশিষ্ট্য, যদি কোনো মানুষের একটিমাত্র কবিরা গোনাহ থাকে (অন্য কোনো গোনাহ না থাকলেও) ওই কবিরা গোনাহ থেকে যদি সে তওবা না করে এবং আল্লাহ ক্ষমা না করেন তবে সে ব্যক্তিকে মাত্র ওই একটি কবিরা গোনাহের জন্য জাহান্নামে যেতে হবে। যদিও নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত শাস্তি ভোগের পর ঈমানের কারণে ক্ষমা পেয়ে আল্লাহর দয়ায় জান্নাতে প্রবেশ করবে।
ছগিরা গোনাহ বা ছোট পাপ : যেসব আদেশ-নিষেধের লঙ্ঘনে বিশেষ নির্দিষ্ট শাস্তির কথা উল্লখ হয়নি। এসব কাজ মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। ছগিরা গোনাহ যে কোনো নেক আমল দ্বারা মাফ হয়ে যায়। এর জন্য বিচারে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে না। কোরআন পাকে আল্লাহ তায়ালা বলেন : তোমাদিগকে যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা গুরুতর তা হতে বিরত থাকলে তোমাদের লঘুতর পাপগুলো (ছগিরা গোনাহগুলো) মোচন করব এবং তোমাদিগকে সম্মানজনক স্থানে দাখিল করব। (সূরা নিসা : ৩১)।
কবিরা গোনাহ বা বড় অপরাধ : সেসব আদেশ-নিষেধের লঙ্ঘনে জাহান্নাম, আগুনের শাস্তি বা নির্দিষ্ট আজাবের সাবধানবাণী রয়েছে এসব কাজ হারাম। কবিরা গোনাহ তাওবাহ দ্বারা ক্ষমা পাওয়া যায়। কবিরা গোনাহের শাস্তির বিষয়ে পবিত্র কোরআনে যেসব স্থানে জাহান্নামে ‘চিরস্থায়ীভাবে’ থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে, সেগুলোর বিপরীত বিবরণও কোরআন-সুন্নাহতে বিদ্যমান থাকায় মুজতাহিদরা বলেছেন, ‘চিরস্থায়ীভাবে’ অর্থ হবে দীর্ঘকাল; অনন্তকাল নয়। (তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন)।
কারণ ওসমান (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন : “কোনো ব্যক্তি যদি ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র ঘোষণা দেয় এবং এরই ওপর মৃত্যুবরণ করে, তবে অবশ্যই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (মুসলিম : ১/২৬)। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) আরও বলেন : ‘আমার উম্মতের কবিরা গোনাহওয়ালার জন্য আমার সুপারিশ থাকবে।’ (তিরমিজি : ২৩১)। নবীজি (সা.) এর সুপারিশ অবশ্যই গ্রহণ করা হবে। আল্লাহ তায়ালার বাণী: ‘আর অচিরেই আপনার রব আপনাকে এমন দান দেবেন, যাতে আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।’ (সূরা দুহা : ৫)।
মোমিনের কর্তব্য হলো ছোট-বড় সব গোনাহের বিষয়ে সতর্ক থাকা, বিশেষত কবিরা গোনাহ থেকে দূরে থাকা এবং শিরিক থেকে মুক্ত থাকা। পাপি-তাপি বান্দাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আশার বাণী: (হে রসুল!) বলুন, ‘হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ সমুদয় পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন। তিনি তো অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা যুমার : ৫৩)।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) আরও বলেন : ‘আমার উম্মতের কবিরা গোনাহওয়ালার জন্য আমার সুপারিশ থাকবে।’ (তিরমিজি : ২৩১)। নবীজি (সা.) এর সুপারিশ অবশ্যই গ্রহণ করা হবে। আল্লাহ তায়ালার বাণী : ‘আর অচিরেই আপনার রব আপনাকে এমন দান দিবেন, যাতে আপনি সন্তুষ্ট হয়

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ